ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়েশিশুর নিরাপত্তা: যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২১ ১২:৩০:০২
মেয়েশিশুর নিরাপত্তা: যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি মেয়েশিশুর নিরাপত্তা: যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
(এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ পাঠকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে)

‘তখন আমি গ্রামের স্কুলে ক্লাস টু-তে পড়ি। আমাদের বাড়িটা অনেকটা উঠোনঘেরা, চারপাশে কয়েকটি ঘর, একেকটিতে একেক পরিবার। সবাই আত্মীয়। একে অন্যের ঘরে যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। একদিন দুপুরে আমার এক কাজিন আমাকে তাদের ঘরে ডাকলো। আমিও স্বাভাবিকভাবেই গেলাম। গিয়ে দেখি ঘরে আর কেউ নাই। এরপর সে আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার মুখ চেপে ধরে।’

নিজের শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বলছিলেন ২৮ বছর বয়সী সুরভী। তার সামাজিক সুরক্ষার কথা ভেবে এখানে তার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তখন চিৎকার করতে পারছিলাম না, কাউকে ডাকতেও পারছিলাম না। চোখের সামনে শুধু অন্ধকার দেখছিলাম, বড় হয়ে বুঝেছি, এটিকেই বলে যৌন নির্যাতন।’

সুরভীর মতো অভিজ্ঞতার কথা খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে বলেন। তবে শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা বা নির্যাতনের বড় একটি অংশ ঘটে পরিচিত মানুষের হাতেই, যাদের মধ্যে থাকতে পারেন আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত কেউ।

সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীতে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে ঘরে-বাইরে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বিশেষ করে মেয়েশিশুরা কতটা নিরাপদ, পরিবারগুলো কীভাবে ঝুঁকি চিনবে এবং সন্তানকে নিরাপদ রাখতে কী ধরনের সচেতনতা জরুরি-এসব প্রশ্ন এখন অনেকের মনে।

চেনা মানুষই যখন ঝুঁকি

সাত বছর বয়সি শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি ফ্ল্যাটে শিশুটিকে প্রথমে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার মাথার অংশটি পাওয়া যায় টয়লেটে এবং শরীরের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে।

ঘটনার দিন, গত ১৯ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধ গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে আসামি লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু শিশুটির মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় সে তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি এবং জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ যে ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, সেটি ছিল রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাট এবং এই হত্যাকাণ্ডে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন রামিসাদের প্রতিবেশী। তাই, অনেকেই লিখছেন, শুধু প্রতিবেশী না, আত্মীয়স্বজনকেও যেন শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে অন্ধবিশ্বাস না করা হয়।

অবশ্য, পরিসংখ্যানও তেমনটাই বলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই পরিচিতদের দ্বারাই শিশুরা যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ১০০টি যৌন নির্যাতনের ঘটনার ৯৩টির ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ভুক্তভোগী শিশুর পরিচিত কেউ থাকে, বলছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আরএআইএনএন। এ প্রতিষ্ঠানটি ধর্ষণ, সহিংসতা নিয়ে কাজ করে থাকে।









 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ